
লেখক ও গবেষক

পরিকল্পনাটা ছিল মহাকাব্যিক। সমাজ যখন তাদের প্রেম মেনে নেবে না, তখন তারা সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যমুনার বুকে একসঙ্গে ঝাঁপ দেবেন। ইতিহাসে লেখা থাকবে, “দুই প্রেমিক-প্রেমিকা একসঙ্গে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন।”

সবশেষে দেখা যায়, এই দেশে সবারই কোনো না কোনো ছাতা আছে। শুধু নেই আমজনতার। তারা নিজেরাই যেন ব্যাঙের ছাতা; বর্ষায় হঠাৎ জন্মায়, রোদ উঠলে শুকিয়ে যায়, আর ক্ষমতার পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে মিলিয়ে যায়।

তারা পরীক্ষা দেয়নি বলে আমরা অবাক। বরং অবাক হওয়া উচিত, এত বছর ধরে একই নাটক দেখে, একই প্রতিশ্রুতি শুনে, একই প্রশ্ন মুখস্থ করে, একই লাইনে দাঁড়িয়ে, একই হতাশার গল্প শুনেও এত মানুষ এখনো বিশ্বাস করে, এইবার হয়তো অলৌকিক কিছু ঘটবে! বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থা আর নদী নয়, এটা মরীচিকা।

কোনো লেখককে ‘থার্ডক্লাস’ বলার আগে হয়তো একটু থামা দরকার। কারণ সাহিত্য শেষ পর্যন্ত আদালত নয়, যেখানে একজন বিচারক হাতুড়ি পিটিয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। সাহিত্য বরং একটি দীর্ঘ, অন্তহীন কথোপকথন– যেখানে শেষ কথা বলে পাঠক, আর সর্বশেষ রায় দেয় সময়।

সংসদে দাঁড়িয়ে মাননীয় এমপিরা যখন এমন বেপরোয়া, লাগামহীন বক্তব্য দেন, তখন মনে হয়–সংসদ কোনো আইনসভার অধিবেশন নয়, বরং এটি একটি ‘স্ট্যান্ড-আপ কমেডি’র মঞ্চ। যেখানে জনপ্রতিনিধিরা আসেন, মাইক্রোফোন নেন, মনগড়া রূপকথা শোনান, এবং শেষে ধরা খেলে বলেন, “সরি ভাই, মাথায় একটু ব্যথা ছিল!”

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, আমরা ধীরে ধীরে প্রশ্ন করাকে সন্দেহ করতে শিখেছি। কেউ প্রশ্ন করলে উত্তর দেওয়ার আগে তার রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাই। যেন প্রশ্নের সত্যতা নয়, প্রশ্নকারীর রাজনৈতিক পরিচয়ই আসল বিষয়।

নেতানিয়াহুর উচিত, রবীন্দ্রসংগীত শোনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তো বলেই গেছেন, “যে তোরে পাগল বলে তারে তুই বলিস নে কিছু...।” কাজেই, নো চিন্তা, ডু ফুর্তি!